২০১৫ সাল পর্যন্ত অপু বিশ্বাসের সঙ্গে টানা সিনেমা করে যাচ্ছিলেন শাকিব খান। ২০১৬ সালে নিজেকে নতুনভাবে হাজির করতে দেখা যায় তাঁকে। নতুন নতুন অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে দেখা যায় শাকিবকে। নিজের লুকেও বদল আনেন ঢাকাই ছবির এই জনপ্রিয় নায়ক। ২০১৬ সালে তাঁকে জয়া আহসানের সঙ্গে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি টু’তে দেখা যায়। অভিনয় করেন শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘শিকারি’ও। সেই ধারাবাহিকতায় একই বছর অভিনয় করেন ‘বসগিরি’তে। শামীম আহমদের এই ছবি দিয়েই ঢাকাই ছবি পান নতুন নায়িকা—শবনম বুবলী। সিনেমায় নতুন হলেও ছোট পর্দার দর্শকের কাছে তিনি ছিলেন চেনা নাম। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপক ছিলেন তিনি।
ঢালিউডের শীর্ষ নায়কের বিপরীতে প্রথম ছবিই সুপারহিট। বুবলীকে আর পেছন ফিরে দেখতে হয়নি। যদিও সিনেমায় অভিনয় নিয়ে তাঁর পরিবারের ঘোর আপত্তি ছিল। পরে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুবলী বলেছিলেন, সিনেমায় অভিনয় নিয়ে তাঁর পরিবারের কেউই রাজি ছিলেন না। পরে প্রযোজকের পক্ষ থেকে বুবলীর মা–বাবাকে বোঝানো গেলেও বাকি দুই বোন কোনোমতেই বুবলীকে সিনেমায় অভিনয়ের অনুমতি দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু এরপরও নিজের স্বপ্নের ওপর জোর আস্থা থাকায় সিনেমায় নাম লেখান বুবলী। পরিবারের সবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েই কাজ শুরু করেন। এরপর প্রথম ছবি মুক্তি পেলে পরিবারের ‘না’ বদলে যায় ‘হ্যাঁ’তে।
অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের কথা মনে করে ২০১৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুবলী বলেন, ‘অভিনয় শুরুর প্রায় আট মাস পর্যন্ত বোন আর দুলাভাইয়েরা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। পরে তাঁরা যখন দেখেছেন, খ্যাতি আর সিনেমাজগতে উচ্চকিত আলো আমাকে বিগড়ে দেয়নি, বরং চারদিকে আমাকে নিয়ে প্রশংসা হচ্ছে, তখন তাঁরা আমার প্রতি সহজ হয়েছেন।’
প্রথম ছবির সাফল্যে পর শাকিব খানের সঙ্গে একের পর এক ছবি করতে থাকেন। করেন ‘শুটার’, ‘রংবাজ’, ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’, ‘সুপার হিরো’, ‘পাসওয়ার্ড’সহ আরও ১০ ছবি। শাকিবের সঙ্গে একের পর এক ছবি করায় তাঁদের প্রেমের গুঞ্জনও রটে। যদিও শাকিব ও বুবলী দুজনই সেটা অস্বীকার করেছেন। বুবলীর মতে, তাঁদের প্রেমের গুঞ্জনের পুরোটাই দর্শকের কল্পনা। বারবার কেন শাকিবের সঙ্গেই ছবি করেন? এ প্রশ্নের উত্তরে আগে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করতে চান কিন্তু ব্যাটে-বলে না মেলায় হয়নি।

